আমি মন থেকে বাঙালি: বিদ্যা বালান

  ১৯, ফেব্রু ২০১৫  |    Online Desk, ডেস্ক রিপোর্ট  |    707

যাও পাখি বলো, হাওয়া ছলো ছলো, আবছায়া জানলার কাচ দুই পাশে মির্চি মোড়া রেড কার্পেটে দাঁড়িয়ে যিনি সুরের পাখিকে উড়িয়ে দিলেন তিনি না পেশায় গায়িকা, না জন্মসূত্রে বাঙালি। তবে নিঃসন্দেহে বাংলা গান যে তিনি ভালোবাসেন, তা বলার অপেক্ষা রাখে না। মির্চি মিউজিক অ্যাওয়ার্ডের সন্ধে সাক্ষি থাকল এই বাংলা গানের টানে ভাসা অন্য বিদ্যা বালানের।

এমনিতে বলিউড থেকে যে সেলিব্রিটিই আসুন, তাঁরা কলকাতাকে খুশি করে মিষ্টি দই আর রসগোল্লাকে প্রশংসায় ভরিয়ে দেন। তাতে তাঁদের জিভ জল না আসুক, বাঙালির মন গলে জল হয়ে যায়। কিন্তু বিদ্যার তা দরকার হয় না। আসলে বাংলা ভাষা এবং কলকাতার সঙ্গে তাঁর যোগাযোগের কহানিটাই যে অন্যরকম। চতুর্থ মির্চি মিউজিক অ্যাওয়ার্ডের রেড কার্পেটে দাঁড়িয়ে এক নিমেষে বিদ্যা পাড়ি দিলেন কেরিয়ারের শুরুর দিনগুলোয়। বললেন, বাংলা ছবি ভালো থেকো দিয়ে কেরিয়ার শুরু করেছি। কলকাতায় মিউজিক ভিডিও শুট করেছি। তারপর, পরিণীতা ভুলভুলাইয়ায় বাঙালি মেয়ের চরিত্রে অভিনয় করেছি। কলকাতার সঙ্গে তার এমনই নিবিড় যোগাযোগ। আর তাই অনায়াসে বললেন, আমি মন থেকে বাঙালি।

কলকাতার ইউএসপিও তাঁর কাছে বাকি সবার থেকে আলাদা। শহরের মানুষের ভালোবাসার থেকে সংস্কৃতি এবং সংগীতের কথা তো জানালেনই, কিন্তু কলকাতার শিরা উপশিরার স্পন্দনও তিনি ধরতে পারেন ঠিকঠাকই। বললেন, কলকাতা একই সঙ্গে প্রগ্রেসিভ আবার তার সঙ্গে একটা ওল্ড চার্মও আছে। এই শহরেই তাই বিদ্যা বাগচি হয়ে বারবার ফিরে আসতে তাঁর ভালো লাগে। সামনেই আসছে তাঁর হামারি অধুরি কাহানি। নতুন ছবি নিয়েও শহরে তাঁর অসংখ্য ফ্যানদের জানিয়ে গেলেন তাঁর মনের কথা। বললেন, পরিণীতার পর আবার একটা ইনটেন্স লাভ স্টোরিতে কাজ করছি। এটা আমার কাছে খুব এক্সাইটিং। পরিচালক মোহিত সুরির সঙ্গে প্রথমবার কাজ করছেন। জানালেন, মোহিত এই জেনরেশনের পরিচালক হলেও, ওর কাজে একটা পুরনো চার্ম আছে। সেটা আমার খুব পছন্দের।

মেলোডি ভালোবাসেন বিদ্যা। আর তাই অন্তহীন ছবির গান তাঁর প্রিয়। আসলে শান্তনু মৈত্রের সুরই বড় ভালোবাসেন। তাই বন্ধু অভিনেতা রাহুল বোসকে নাকি মজা করে বলেই ফেলেছেন, যদি ওই গানের দৃশ্যে তাঁর বদলে বিদ্যা নিজেই স্ক্রিনে থাকতেন তবে কী ভালো না হত! তাঁর প্রিয় শিল্পীর তালিকায় প্রথমেই অবধারিতভাবে থাকছেন শ্রেয়া ঘোষাল। তবে সুনিধি চৌহানের গানে পারফর্ম করার চ্যালেঞ্জ পেলেও যে মন্দ হত না জানিয়ে গেলেন বিদ্যা। অলটাইম ফেভারিট গানের তালিকায় বিদ্যা রাখলেন, ‘জয় জয় শিব শঙ্করকে’। মান্না দে থেকে রাহুল দেব বর্মন সবই গুণগুণ করে গেয়ে উঠতে পারেন। এদিন গাইলেনও পছন্দের দু’এক কলি। বলিউডে তো এত নায়িকা গান গাইছেন। গান ভালোবাসা বিদ্যা কি কোনওদিন সিনেমায় প্লে-ব্যাক করবেন? হেসে উঠে জানালেন, ‘আমি লিপ দিয়েই খুশি। গান গাইলে সবাই হল থেকে পালিয়ে যাবেন।

গানে-গল্পে-প্রাণ খোলা আড্ডায় মির্চির ঝাঁঝ দিয়ে মোড়া রেড কার্পেটে তিনি ছড়িয়ে   দিলেন একরাশ স্নিগ্ধতা। সাউথ ইন্ডিয়ান সিল্ক আর গোলাপি বিন্দিতে একেবারে বাঙালির ঘরের মেয়ে সেজেই এসেছিলেন। তবে শুধু সাজে নয়, কথায় নয়, কাজেও প্রমাণ করে দিলেন তিনি বাংলার ঘরের মেয়েই। কহানির শুটিংয়ে যাঁর সঙ্গে আলাপ হয়েছিল, তাঁকেও চিনতে পারলেন। কে বলবে তিনি জাতীয় পুরস্কার জয়ী অভিনেত্রী, একেবারে চড়ুইভাতির মেজাজে মনে করলেন শুটিংয়ের সেইসব স্মৃতি। বাংলার উঠতি গায়িকার সঙ্গে আলাপ হওয়ার পর, বারবার জিজ্ঞেস করে জেনে নিলেন তাঁর নামের মানে।

তারপর আপনমনেই বারকয়েক উচ্চারণ করে সে নাম আয়ত্তও করে নিলেন। তিনি এরকমই। জন্মসূত্রে যাই হোন না কেন, কাজের ক্ষেত্র যতই হোক বলিউড, প্রাণে বাংলা ভাষা আর গানের সুর ধরে রেখে তিনি সত্যিই মনে বাঙালি। একান্তই গানের জন্য বরাদ্দ একটা দিনে বিদ্যা বাংলার ঠিকানায় রেখে গেলেন সীমানা পেরনো এক ভালোবাসার সুর। সে ভালোবাসা বাংলাকে, বাংলা গান, সংস্কৃতিকে। ভিনপ্রদেশের মানুষ হয়ে অন্তরে জমিয়ে রাখা এই ভালোবাসার সুরই হয়তো এই সুরের সন্ধেয় বাংলার জন্য সেরা স্বীকৃতি!
 

সংশ্লিষ্ট খবর

এক মাসে ফেরদৌস এর তিন ছবি!

  ১৩, ডিসে ২০১৫  |    1268

তারকা হয়েছি তা ভাবছি না : আলিয়া ভাট

  ১১, সেপ্টে ২০১৫  |    427