হ্যাপি ভ্যালেন্টাইন ডে : হাসিবুর রেজা কল্লোল

  ১৪, ফেব্রু ২০১৫  |    Online Desk, গ্লামার্স ওয়ার্ল্ড  |    280

হাসিবুর রেজা কল্লোল: কেমন ভাবে শুরু হল ২০১৫ সালের ভ্যালেইন্টাইন ডেঃ জালাল যখন ফোন করলো তখন রাত ১১টা। কাহিনী কি জালাল?
দাদা,মগবাজার রেললাইনের সামনে গাড়ির স্টার্ট বন্ধ হয়ে গেছে, একটু আসতে পারবেন? আমি জানি জালালের এ’ আহ্বান গাড়ি ধাক্কিয়ে নেবার, পিছলাতে পারলাম না, আর কিছুক্ষন পরেই জালালের বয়স আরও একবছর বাড়বে, মানে তার জন্মদিন। সেই মুহূর্তে মনে হল ভ্যালেন্টাইন ডে’তে জন্মদিন, এ’ মনে হয় নিজের বানানো! তারপরও ধাক্কা সঙ্গী হিসাবে ডেকে নিলাম লুৎফর হাসানকে। আমি নীচে নামতে নামতেই বাসার গেটে আমাদের লুতু! একটা রিকশা নিয়ে রেললাইনের কাছে পৌছুতেই একটা লোকাল ট্রেন তীব্র শব্দে ধুলো উড়িয়ে আমাদের পথরোধ করলো, আবার জালালের ফোন। আর ট্রেনের বগি গুনে শেষ করা যাচ্ছেনা, একসময় পার হলাম রেললাইন, হাটতে হাটতেই ফোন করলাম জালাল কে। জালাল তুমি কই? এফডিসি সিগন্যালের আগে ৩নম্বর পিলারের সামনে, দাদা। এগিয়ে গিয়ে দেখি বিরস মুখে রাস্তার পাশে দাঁড়িয়ে অসহায় জালাল ঘড়ি দেখছে। আর ৪০মিনিট পরেই তার জন্মদিন। রাস্তার লোকজনকে সিগন্যাল দিয়েও জালাল যখন কাউকে থামাতে ব্যর্থ হল তখন রাস্তার পাশে দাঁড়ানো আমার মত ভবঘুরে টাইপের একজনকে রাজী করাল কিছু টাকার বিনিময়ে গাড়ি ধাক্কাতে। আমি স্টিয়ারিং ধরে বসা, জালালের সাথে সেই ভবঘুরে গাড়ি ধাক্কাচ্ছে, আর আমাদের লুতু দুধভাত! হাজার হলেও সে অনেক বিখ্যাত মানুষ, এই দৃশ্য কোনও ফ্যান- ফলোয়ার দেখলে তাঁর এ্যালবাম বিক্রি যেমন কমবে, ফেসবুকেও লাইক-কমেন্ট কমে আসবে সে আশঙ্কা থেকেই তাঁকে আর চাপাচাপি করলাম না, এফডিসি রেল সিগন্যাল পর্যন্ত এসে আবার আমরা থামলাম। আবারও রাস্তায় হাত দেখিয়ে গাড়ি থামানোর চেষ্টা, ঘড়িতে তখন ১১টা ৪০। আবার ধাক্কা শুরু। বিজিএমইএ’র সামনের সি,এন,জি পাম্পের পাশে পাওয়া গেলো একটা গ্যারেজের মত দোকান, সেখানে পান-সিগারেটও বিক্রি হয়! গ্যাসের লাইনে দাঁড়ানো বাংলাভিশনের একটা গাড়ির ড্রাইভারকে বোঝানোর চেষ্টা করলাম যে, একসময় আমি তার কলিগ ছিলাম, সে খুব বেশী পাত্তা না দিলেও গ্যাস নেয়া শেষ করে আমাদের সহযোগিতা করতে এলো, গাড়ি স্টার্ট নিলো, কিছুদির এসেই একুশে টিভির ঠিক সামনে এসে আবারও স্টার্ট বন্ধ। ঘড়িতে ১২টা…! শুভ জন্মদিন জালাল! শুকনো হাসি দিয়ে জিভ দিয়ে ঠোঁট ভিজিয়ে জালাল যে হাসিটা দিলো, অসাম! ইটিভির ড্রাইভার ফারুক আর সাথে বেয়াদপ ফিরোজ এগিয়ে এলো আমাদের সহযোগিতা করতে, গাড়ি স্টার্ট নিলো, আমরা এখন ইস্কাটনে, লুৎফর ভাই আর আমাকে নামিয়ে দিয়ে জালাল চলে গেলো। বালিশে মাথা রাখতেই গভীর ঘুম, সকাল হল,ঘড়িতে সাড়ে ৭টা। ফ্রেশ হয়ে চা’ চাইলাম, আমার বৌ একটা ভুবন ভোলানো হাসি দিলো, তার এই হাসি আমি চিনি, শংকিত হয়ে হাসলাম, সে বলল- যাও, মেয়েকে স্কুলে দিয়ে আসো। ভ্যালেন্টাইন ডে’তে ‘ডিনাই’ করা মানায় না। মেয়েকে নিয়ে নামলাম স্কুলের পথে। আমার মেয়ে খুব দার্শনিক গোছের! মাঝে মাঝে অদ্ভুত সব কথা বলে। সে বলল, আচ্ছা আব্বু, ভ্যালেন্টাইন ডেতে কি মানুষ পোড়ানো বন্ধ থাকবে, যারা মানুষ পোড়ায় তারাও ভালবাসবে, ফুল কিনবে? এর উত্তর কি আমি জানি? না মনে হয়! সত্তাকে স্কুলে দিয়ে ফেরার পথে জীবনে প্রথমবারের মত বৌ এর জন্য ফুল দরদাম করলাম, একটা গোলাপ ফুল ৪০টাকা, তাতে কি, কিনতেই হবে, এই ফুল এসেছে আমার জন্ম শহর যশোরের গদখালি থেকে, অবরোধ- হরতালে বিপর্যস্ত ফুলচাষিরা এই দিনটার জন্য অপেক্ষা করে আছে একটা বছর। কিনলাম, বাসায় এনে বউকে দিতেই এমনভাবে তাকাল, যেন সকালে মেয়েকে স্কুলে দিতে যাইনি, কোনও গোপন প্রেমিকার সাথে ডেটিং করে গোলাপ জিতে নিয়ে এসেছি…!!! তারপরও মনে মনে বল্লাম,’হ্যাপি ভ্যালেন্টাইন ডে’।

সংশ্লিষ্ট খবর

নেতিবাচক মানুষদের চেনার উপায়

  ২৪, ডিসে ২০১৫  |    397

এবার বেঁচে থাকার গান ইউটিউবেই

  ৮, ফেব্রু ২০১৭  |    124

ঘাওড়া মোশারফ করিম

  ৯, জানু ২০১৬  |    514