পর্ণোগ্রাফী আইনে গ্রেফতার একুশে টেলিভিশনের চেয়ারম্যান আব্দুস সালাম

  ৬, জানু ২০১৫  |    Online Desk, মিডিয়াকথা  |    377

একুশে টেলিভিশনের (ইটিভি) চেয়ারম্যান  ও সিইও আবদুস সালামকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। সালামকে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের কার্যালয়ে নেয়া হয়েছে বলে আজ মঙ্গলবার সকালে উপ-কমিশনার (মিডিয়া) মাসুদুর রহমান জানিয়েছেন। জনাব আবদুস সালামকে পর্নোগ্রাফি আইনের মামলায় গ্রেফতার (শ্যোন অ্যারেস্ট) দেখানো হয়েছে।  গত ০৬.১১.২০১৪ একুশে টেলিভিশনের অপরাধ বিষয়ক অনুসন্ধানী অনুষ্ঠান ‘একুশের চোখ’ – এ এক প্রবাসীর স্ত্রীকে নিয়ে প্রতিবেদন প্রচার করা হয়। সেখানে প্রবাসীল স্ত্রীকে অনেক খোলামেলা প্রচার করা হয় ।  গত বছরের ২৬ নভেম্বর রাজধানীর ক্যান্টনমেন্ট থানায় একটি মামলাটি (নম্বর ১৪) দায়ের করেন কানিজ ফাতেমা নামের এক মহিলা। আর এই মামালাতেই একুশে টেলিভিশনের চেয়ারম্যানকে গ্রেফতার দেখানে হয়েছে বলে সুত্রমাতে জানা গিয়েছে। মামলা বর্তমানে মহানগন গোয়েন্দা পুলিশের তদন্ত্র করছে বলে জানা গিয়েছে।
এর আগে ভোররাতে কারওয়ানবাজারে ইটিভির প্রধান কার্যালয়ের নিচ থেকে সালামকে ধরে নেয় গোয়েন্দারা। ইটিভির জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক অখিল পোদ্দার বলেন, রাত সাড়ে ৩টার দিকে ইটিভি চেয়ারম্যান সালাম গুলশানে বাসায় যাওয়ার উদ্দেশে অফিস থেকে বের হন। গাড়ি নিয়ে রাস্তায় নামলেই গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) পোশাক পরা একদল লোক তার পথ আটকায়।
সাবদুস সালামের গাড়িচালক বাদল জানান, রাত সাড়ে ৩টার দিকে চেয়ারম্যানকে নিয়ে পার্কিং থেকে বের হতেই হঠাৎ ১০-১২ জন লোক এসে গাড়ি ঘিরে ফেলে এবং বলে, আপনি কি সালাম ভাই। পরিচয় নিশ্চিত হওয়ার পর গাড়ি থেকে তাকে নামতে বলে।
তিনি না নামায় চালক (বাদল) গাড়ি (মার্সিটিজ ব্র্যান্ড, ঢাকা মেট্রো-ভ ১১-০৬৩৯) টান দিয়ে নিয়ে যেতে চাইলে একজন চালককে কলার ধরে টেনে নামিয়ে দেয়। এরপর সাদা পোশাকধারী একজন গাড়িতে উঠে চালিয়ে নিয়ে যায় এবং বলে যায় ডিবি অফিসে নিয়ে যাচ্ছি। ওই ১০-১২ জনের কাছে ওয়াকিটকি ও রিভলবার ছিল এবং সবাই সাদা পোশাকে থাকলেও একজন ডিবি লেখা কটি পরে ছিল।

একুশের চোখ

এই রিপোর্টে একুশের চোখ প্রোগ্রামের রিপোর্টার ইলিয়াস একজন নারীর প্রাইভেসী হরন করেছে ।

একুশের চোখের অই প্রতিবেদন নিয়ে সাধারন মানুষের মাঝে সমালোচনার  ঘর উঠে ।  এই বিষয়টি নিয়ে একাত্তর টেলিভিশনের স্টাফ রিপোর্টার জেমসন মাহাবুব  ফেজবুকে কিছু প্রশ্ন রাখেন নিচে তা তুলে ধরা হল ।

টেলিভিশনের অনুসন্ধানী অনুষ্ঠান ‘একুশের চোখ’ দেখছিলাম গত বৃহস্পতিবার (০৬.১১.২০১৪) রাতে। আর তার বিষয় ছিল স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে দাম্পত্য কলহ। ভাল বিষয়…।
তবে উপস্থাপক ইলিয়াস হোসাইন শুরুতেই ঘোষণা করেন ১৮ বছরের নীচে যাদের বয়স তারা যেন এই অনুষ্ঠান না দেখেন। এই পর্বটি প্রাপ্ত বয়স্কদের জন্য!( একুশে টিভি কী এডাল্ট চ্যানেল!)

যাক, দর্শক হিসবে আমি একাই ছিলাম। আর আমি প্রাপ্ত বয়স্ক…..

অনুষ্ঠান শুরু হল একটি যৌথ পরিবারের গল্প দিয়ে। উপস্থাপক নিজেই ভোরে সেই পরিবারের বেডরুমে সরাসরি ঢুকে গেলেন ক্যামেরা নিয়ে , কিন্তু বেডরুমে সবাই ঘুমিয়ে আছেন( নাটক আর কাকে বলে)। এরপর তিনি সেই ঘুমন্ত মানুষগুলোর বর্ণনা দিলেন এবং যৌথ পরিবারের নানা ইকিবাচক দিক তুলে ধরলেন। এপর্যন্ত নাটক হলেও আপত্তিকর কিছু নেই।
কিন্তু এর পরেই শুরু হল আসল ঘটনা। যার সঙ্গে ওই যৌথ পরিবারের কোন সম্পর্ক নেই। এটি আরেকটি একক পরিবার। যে পরিবারের কর্তা থাকেন প্রবাসে আর তাঁর স্ত্রী ঢাকায়। ঢাকায় ফিরে স্বামী আবিস্কার করেন যে তাঁর স্ত্রী ‘অনৈতিক’ সম্পর্কে জড়িয়ে পড়েছেন। এনিয়ে চলে অভিযোগ পাল্টা অভিযোগ। স্বামী অভিযোগ করেন বুক ফুলিয়ে আর স্ত্রী কাপড়ে মুখ ঢেকে।

কিন্তু সাংবাদিক কাম উপস্থাপক আর কিছু রাখ-ঢাক করলেন না। তিনি সেই নারীর স্টিল ছবি দেখিয়ে দিলেন নানা ভঙ্গিমায়। তার পর স্বামীর ল্যাপটপ থেকে আবিস্কার করা স্ত্রীর কথিত অনৈতিক সম্পর্কের ভিডিও চিত্র। সেখানে কৌশল হিসেবে ফুটেজ নেগেটিভ করে দেখান হল, কিন্তু পুরো মুভমেন্টই স্পষ্ট। যা দেখতে যে কারুর রুচিতে বাধবে। সাংবাদিক( না সাংঘাতিক) সাহেব হয়তো বলবেন, তিনি নীতিমালা মেনে ছবিটি ব্ল্যাক করেছেন, যাতে নারীকে কেউ চিনতে না পারে। কিন্তু হায় কার বুঝতে আর বাকি আছে যে আগেই স্পষ্টভাবে স্টিল ছবির নারীই এই নারী।

এরপর পুরো অনুষ্ঠান জুড়ে স্টিল ছবির সঙ্গে লিংক করে ওই ভিডিও ঘুরিয়ে ঘুরিয়ে দেখান হল (বিকৃত রুচি আর কাকে বলে!)। পুরো অনুষ্ঠান জুড়েই অনুসন্ধানের নামে এক নারীর ওপর চালান হল সাংবাদিকতার নামে পাশবিকতা।

এই মহান(!) স্বামী ওই নারীর বিরুদ্ধে এত অভিযোগ করার পরও তাকেই আবার চান। তাঁর সঙ্গে থাকতে চান ( কী বিস্ময়কর)। আর উপস্থাপক সেই বক্তব্য প্রচার করে মহান দায়িত্ব পালন করেন। সবক দেন দশর্ককে। আবার ফিরে আসেন যৌথ পরিবারে। একটি নগ্ন ভিডিওকে আরেকটি যৌথ পরিবার দিয়ে সামাল দিতে চান। ভাবখানা তিনি কত বড় সাংবাদিক, আর সবাই বোকা।

বিশ্লেষণ এবং কয়েকটি প্রশ্ন:

১.ওই নারীর কথিত অনৈতিক কাজের ভিডিও ধারণ করেছে কারা? নিশ্চয়ই নারী নিজে নন। যারা করেছেন তারা তাঁকে ব্ল্যাক মেইল করার জন্যই করেছেন। তারা আবার তাঁর স্বামীর কাছে তা পৌঁছেও দিয়েছেন। ওই চক্রটি ভিডিও ধারণ এবং তা ছড়িয়ে দিয়ে দু’টি অপরাধ করেছে। তাঁর স্বামী একুশে টেলিভিশনকে তা সরবরাহ করেও অপরাধ করেছেন। আর একুশে টেলিভিশন নারীকে চিহ্নিত করে তা প্রচার করে একই অপরাধ করেছে।

২.এখন এই নারীর জীবনকে শেষ করার দায় কে নেবে? তিনিতো আর স্বাভাবিক জীবন-যাপন করতে পারবেন না। এমনকি আত্মহত্যাও করতে পারেন। আইন বলে, এখানে একুশে টেলিভিশন, নারীর স্বামী এবং যারা ভিডিও করেছেন সবাই সমান অপরাধী। এবং একুশে টেলিভিশনের অপরাধের মাত্রা সবচেয়ে বেশি । কারণ তাদের সম্প্রচারের কারণে এখন দেশে বিদেশে অসংখ্য দর্শক এই নারীকে দেখলেন, চিনলেন। এটা মিডিয়ার নারী নির্যাতন ছাড়া আর কিছুই নয়।

৩.একই সঙ্গে একুশে টেলিভিশন তার দর্শকদের মধ্যে পর্ণগ্রাফি ছড়ানোর দায়েও দায়ী। তারা নগ্ন ভিডিও দেখিয়ে সম্প্রচার নীতিমালার লঙ্ঘন করেছেন। এটাও আইনের দৃষ্টিতে জঘন্যতম অপরাধ।

৪.কিন্তু আরো বড় কথা হলো, পুরো অনুষ্ঠানটি দেখলে স্পষ্ট হয়ে যায় যে, ওই নারীর স্বামীকে বাঁচানো এবং নারীকে শেষ করে দেয়াই ছিল উদ্দেশ্য। তাহলে প্রশ্ন- এতবড় জঘন্য অপকর্ম কেন করলেন একুশের চোখের উপস্থাপক এবং সাংবাদিক। কিসের লোভে, কিসের বিনিময়ে!

৫.দেশের নারী নেত্রী, সুশীল সমাজ, মানবাধিকার কমিশন আপনারা চুপ কেন? একটি গণমাধ্যমে প্রকাশ্যে এক নারীকে ধর্ষণ করা হল- আপনাদের বিবেক এখন কোথায়? আর এখন কোথায় পুলিশ প্রশাসন? কোথায় তথ্য প্রযুক্তি আইন? কোথায় নারী নির্যাতন আইন? এসবই কী রাজনৈতিকভাবে ব্যবহারের জন্য? সাধারণ মানুষ কী এইসব আইনের আশ্রয় পাবেনা?

দ্রষ্টব্য: এখানে অনুষ্ঠানের ইউটিউবের ভিডিও লিংকটি দেয়া যেত। কিন্তু তা নৈতিকতা বিরোধী বলে দেয়া হল না।

 

 

 

 

 

সংশ্লিষ্ট খবর

সাকিব খানের নতুন ছবি সম্রাট

  ২০, আগ ২০১৫  |    12181

‘নিরাপত্তাহীনতা’ বলিউডে ?

  ৩, ফেব্রু ২০১৬  |    259

ভয়ডরহীন অভিনেতা অজয় দেবগন

  ২৭, মার্চ ২০১৬  |    935

হলিউডে ভিন্ন রুপের নায়িকারা

  ১৩, ডিসে ২০১৫  |    431